নিজস্ব, প্রতিবেদক। কিশোরগঞ্জ থেকে
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আল মারুফের এক ভিডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। তার বক্তব্যে দলীয় সিদ্ধান্ত ও মনোনয়ন নিয়ে তোলা অভিযোগ ঘিরে সংগঠনের ভেতরেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনায় সরাসরি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শোয়েব সাদিকিন বাপ্পি।বাপ্পি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন—মারুফ যে বক্তব্য দিয়েছে—তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি আরও বলেন—
> “আজ যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন, তারা সবাই ১৭ বছর ধরে আন্দোলন–সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন। প্রত্যেকের নামেই ১০–২০টি করে মামলা রয়েছে। অথচ কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, তার নামে কয়টা মামলা আছে—সেটা সবাই জানে।”
বাপ্পি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাদের বাদ দিয়ে মনোনয়নে যাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। তিনি বলেন—“আমরা যারা দিনের পর দিন মামলা, গ্রেফতার, হামলা-মামলা নিয়ে রাজপথে লড়াই করেছি—আমাদের মূল্যায়ন কোথায়? আন্দোলনশীল নেতাদের বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হলে কর্মীদের হতাশা বাড়ে।”
সময় তিনি দলীয় উচ্চপর্যায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—আমি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করবো—এই মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করুন। সকলকে মূল্যায়ন করে, যোগ্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। যারা ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করেছে, তাদেরই সম্মান দেওয়া উচিত।”
তিনি আরও যোগ করেন। মাজহারুল ইসলাম মাজহারকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নেতৃত্বের ভুল নয়—বরং ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল করে নতুন করে বিবেচনার সুযোগ আছে।”
মোস্তফা আল মারুফের বক্তব্যকে তিনি “দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে এটি দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকে কিশোরগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম। নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তর্ক-বিতর্ক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করছেন—মনোনয়নকে ঘিরে সাবেক নেতাদের এই প্রকাশ্য পাল্টাপাল্টি অবস্থান সংগঠনের ভেতরে চলমান চাপা অসন্তোষকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।