সিনিয়র, রিপোর্টার। ফ,ক,নাজমুজ্জামান
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর ওপরও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রথখলা দলীয় কার্যালয়ের সন্নিকটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটিতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল চলাকালে তারা রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং ওসমান হাদীর ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা মো. নাজমুল আলম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
ওসমান হাদীর ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির কণ্ঠরোধের একটি জঘন্য উদাহরণ। ভিন্নমত দমনে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ব্যবহার করা হলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মী ও মতাদর্শিক ব্যক্তিত্বদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হবে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ওসমান হাদীর ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে বিএনপির এই কর্মসূচি শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ নয়, বরং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি প্রতিফলন। রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে দলটি জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে চাইছে।
সমাবেশ থেকে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয় এবং হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়—দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ আবারও প্রমাণ করে, দেশের রাজনীতিতে সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের নিরাপত্তা এখন একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার পথ পরিহার করে গণতান্ত্রিক সংলাপ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ—এমন মতই উঠে এসেছে সমাবেশ ও বিশ্লেষণী আলোচনায়।