করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছাঃ তাহমিনা আক্তার।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আলামিন কবির এবং সেনাবাহিনীর অফিসার ইনচার্জ করিমগঞ্জ উপজেলা মোঃ কামাল উদ্দিন।
সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা নির্মমভাবে নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান—বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যাতে দেশ নিজের জ্ঞান, বিবেক ও নেতৃত্বের শক্তিতে দাঁড়াতে না পারে।
আলোচনা সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ করিমগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল একমাত্র এই উদ্দেশ্যে যে—বাংলাদেশ যেন স্বাধীনতার পর নিজস্ব জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে না পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, একই ধরনের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনাবাহিনীর বহু বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক অফিসারকে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেও একই উদ্দেশ্যে জুলাই যোদ্ধা ও মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে দেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, দুর্নীতি ও বিদেশি প্রভাব অব্যাহত থাকে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মোছাঃ তাহমিনা আক্তার বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি জাতির অগ্রগতির জন্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও নৈতিক নেতৃত্ব কতটা জরুরি। তিনি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ জানার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।