নিজস্ব প্রতিবেদক।
মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)–কে। একই সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ত্রিশ লক্ষ শহীদ, অসংখ্য আহত-নির্যাতিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত নারীদের, যাঁদের রক্তে লেখা হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর—এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাংলাদেশ অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়। এই বিজয়ের পেছনে ছিল সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন, মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহস, আন্তর্জাতিক জনমতের ভূমিকা এবং সামগ্রিকভাবে জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রত্যয়। ইতিহাসের এই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনে যাঁরা নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, তাঁদের অবদান স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে বিশেষভাবে উচ্চারিত। তাঁর নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও দৃঢ় অবস্থান মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল দৃঢ় করতে সহায়ক হয়েছিল—এমন মূল্যায়ন বহু গবেষণা ও স্মৃতিকথায় উঠে এসেছে। যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার বার্তা প্রচার ও প্রতিরোধের আহ্বান জনগণকে সংঘবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—এই সত্য ইতিহাসে স্বীকৃত।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা সহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য বীর সন্তান জীবন উৎসর্গ করেছেন। গ্রাম-গঞ্জের অজানা শহীদদের রক্তেই গড়ে উঠেছে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত। তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আমরা কিশোরগঞ্জ জেলার সকল বীর শহীদসহ সারাদেশের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পরিবার-পরিজনের বেদনা ও ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে জাতির কাছে তাঁদের ঋণ স্বীকার করছি।
বিজয় দিবস কেবল উৎসবের নয়—এটি আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারের দিন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও জাতীয় ঐক্য সুসংহত করার মধ্য দিয়েই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব। ইতিহাসের পাঠ থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীনতার চেতনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আজকের অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
সকল শহীদগণ অমর হউক।
লেখক। নাজমুল আলম
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক
জনতার চেয়ারম্যান সদর উপজেলা কিশোরগঞ্জ