তাড়াইল প্রতিনিধি
স্বৈরাচার হাসিনার আমলে জাতীয় পার্টি ও মুজিবুল হক চুন্নুর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা-ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ–৩ (তারাইল–করিমগঞ্জ) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু। দীর্ঘ সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ এই নেতার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে জাতীয় পার্টির অবস্থান ও তার ব্যক্তিগত ভূমিকা আবারও আলোচনায় এসেছে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের আনুষ্ঠানিকতা-সোমবার সকালে তারাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নুর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার ভাতিজা এ কে এস জামান (সম্রাট)। স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ–৩ আসন থেকে মুজিবুল হক চুন্নু ৬ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বৈরাচার হাসিনার আমলে জাতীয় পার্টির ভূমিকা-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে-শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামল—যাকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচারী শাসন হিসেবে আখ্যায়িত করে—সে সময়ে জাতীয় পার্টির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। সংসদে বিরোধীদলীয় আসনে থেকেও দলটি কার্যত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতি করেছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বিশেষ করে একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার সংকট, গুম-খুন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগের সময় জাতীয় পার্টি রাজপথে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বলে সমালোচকরা মনে করেন। ফলে দলটি “গঠনমূলক বিরোধী দল” না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে সরকার-সমর্থক শক্তি হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে।
স্বৈরাচার হাসিনার আমলে মুজিবুল হক চুন্নুর ভূমিকা-এই সময়ে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দিলেও কঠোর সরকারবিরোধী অবস্থানে না যাওয়ায় তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের, দাবি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য হিসেবে তার অবস্থান সরকারকে সংসদীয় বৈধতা দিতে সহায়ক হয়েছে। তাদের মতে, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রত্যাশিত দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থান জাতীয় পার্টি বা চুন্নুর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
তবে চুন্নুর অনুসারীরা মনে করেন, সংসদের ভেতরে থেকে কথা বলা ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়াই ছিল তার কৌশল। তারা দাবি করেন, সংসদ বর্জন করলে গণতান্ত্রিক পরিসর আরও সংকুচিত হতো।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা-স্বৈরাচার হাসিনার শাসন-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুজিবুল হক চুন্নুর নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়া জাতীয় পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতের ভূমিকা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান—এই তিনের সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে ভোটারদের আস্থা।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও অতীত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না করলে জনসমর্থন আদায় কঠিন হবে।