স্টাফ রিপোর্টার আঃবাছির সাদী
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনি সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। এই সমঝোতার মূলভিত্তি হিসেবে ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও ইসলামি আদর্শ সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সমঝোতার প্রধান শর্ত ও নীতিমালা:
১. ধর্মীয় অনুভূতি ও সার্বভৌমত্বে আপোষ নয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতি ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপোষে যাবে না।
২. সংবিধানে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন সংবিধানের মূলনীতিতে পুনরায় “মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” সংযোজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
৩. রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের সাংবিধানিক স্বীকৃতি বহাল ও সুরক্ষিত রাখার ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে।
৪. ধর্মীয় মর্যাদা ও অবমাননা রোধে কঠোর আইন আল্লাহ, মহানবী (সা.), সাহাবায়ে কেরাম, পবিত্র কুরআনসহ সকল ধর্মের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর ও কঠোর শাস্তিমূলক আইন প্রণয়নের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ।
৫. শরিয়াবিরোধী আইন প্রণয়ন নয় ইসলামি শরিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না—এটি সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
৬. শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক মুসলিম নাগরিকদের জন্য শিক্ষার সব স্তরে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৭. কওমি মাদরাসা গ্রাজুয়েটদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নিয়োগ
কওমি মাদরাসা থেকে উত্তীর্ণ গ্রাজুয়েটদের মসজিদের ইমাম এবং স্কুল–কলেজে ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা দেশের ধর্মভিত্তিক ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মধ্যে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
বিএনপি–জমিয়তের এই শর্তসাপেক্ষ সমঝোতা কেবল একটি নির্বাচনি জোট নয়, বরং এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ঘিরে একটি আদর্শিক ঐক্যের বার্তা—যা আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।