সিনিয়র রিপোর্টার ফজলে করিম মোঃ নাজমুজ্জামান
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বছরের শুরুতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ভূমিকম্প। দীর্ঘদিনের আধিপত্য হারাল জাতীয় পার্টি। সাবেক সংসদ সদস্য ও জাপার প্রভাবশালী নেতা মজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার সংবাদে করিমগঞ্জ-তাড়াইলের রাজপথ এখন অন্য প্রার্থীর সমর্থকদের দখলে। এই শূন্যতায় এখন নির্বাচনী মাঠের মূল লড়াই ধানের শীষ বনাম হাতপাখা ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে।
১. ধানের শীষের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের মিশন
বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকায় এই আসনটি এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর রাজনীতিতে ফেরা এবং মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়া সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের ‘সাইলেন্ট রিভল্যুশন’ বা নীরব বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২. হাতপাখার সুসংগঠিত অবস্থান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলমগীর হোসাইন তালুকদার হাতপাখা প্রতীক নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। করিমগঞ্জ ও তাড়াইলের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় হাতপাখার কর্মী বাহিনী সুসংগঠিত। ইসলামী আন্দোলনের এই বিশাল ভোটব্যাংক এবার বড় কোনো দলকে হটিয়ে বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
৩. জামায়াত সমর্থিত ডা. কর্নেল (অব.) জিহাদ খানের প্রভাব
ভোটের মাঠে শক্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী ডা. কর্নেল (অব.) জিহাদ খান। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শ্যালক হওয়ার সুবাদে তাঁর পারিবারিক ইমেজ এবং জামায়াতের সুশৃঙ্খল ক্যাডার ভিত্তিক ভোটব্যাংক তাঁকে এই আসনে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী,প্রার্থী প্রতীক রাজনৈতিক শক্তি
ড. এম ওসমান ফারুক ধানের শীষ বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক ও সাবেক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ইমেজ।
আলমগীর হোসাইন তালুকদার হাতপাখা ইসলামী আন্দোলনের।সুসংগঠিত তৃণমূল ও তরুণ ভোটার।
ডা. কর্নেল (অব.) জিহাদ খান জামায়াত সমর্থিত নিজস্ব ভোটব্যাংক ও শক্তিশালী পারিবারিক পরিচয়।মাঠের
মজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় জাতীয় পার্টির ভোটগুলো এখন কোন দিকে যাবে, তা-ই বড় প্রশ্ন। যদি চুন্নু শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে ফিরতে না পারেন, তবে ধানের শীষের সাথে হাতপাখা ও জামায়াত প্রার্থীর এক অভূতপূর্ব ত্রিমুখী যুদ্ধের সাক্ষী হতে যাচ্ছে করিমগঞ্জ তাড়াইল বাসী।