মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি আর কখনো যেন না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা মহেশখালীতে সড়কে টমটম দুর্ঘটনায় মিনহা নামক এক শিশুর মৃত্যু। দেহুন্দায় বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে- হাজী পাভেলের অভিনন্দন তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন: চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ সদরের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম দিক হলো-সে কাউকে আগাম সতর্ক করে না,কিন্তু ভুলের মূল্য সুদে-আসলে আদায় করে। -17 যুদ্ধবিমান, পাকিস্তান-বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও জিন্নাহ: ইতিহাস অস্বীকারকারীদের জন্য এক রাজনৈতিক চপেটাঘাত পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরছেন করিমগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আশরাফ হোসেন পাভেল

পোস্টার নিষিদ্ধ: নির্বাচনী প্রচারে নতুন বিধিনিষেধ, প্রার্থীদের করণীয় ও সীমাবদ্ধতা

  • আপডেট সময়: সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৩ বার দেখা হয়েছে

 

সিনিয়র রিপোর্টার ফজলে করিম মোঃ নাজমুজ্জামান 

আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ নেওয়ার মূল কারণ হলো

পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রচারণার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

নির্বাচন কমিশন বলেছে, প্রচারণার সময়

প্রার্থী ও সমর্থকরা আচরণবিধি মানতে বাধ্য থাকবেন।

নতুন বিধিনিষেধের ফলে প্রচারণার ধরন পরিবর্তিত হবে এবং

প্রার্থীরা এমন কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবেন না, যা আগের নির্বাচনে অনুমোদিত ছিল।

পোস্টার নিষিদ্ধের কারণ

নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষণ করেছে, পোস্টার ব্যবহারে

নগর ও গ্রামাঞ্চলে দেয়াল লিখন বৃদ্ধি পায়।

সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নির্বাচনের পর পোস্টার অপসারণে অতিরিক্ত ব্যয় হয়, যা সাধারণ জনগণের জন্যও অসুবিধা সৃষ্টি করে।

অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থীরা পোস্টারের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রভাব তৈরি করতে পারে।

এসব কারণে এবার পোস্টার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রচারণায় প্রার্থীদের নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ

পোস্টার ও ব্যানার

কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন বা প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

দেওাল, বৈদ্যুতিক খুঁটি, সড়ক বা সরকারি ভবনে প্রচারসামগ্রী ঝোলানোও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

সরকারি সুবিধা ব্যবহার

সরকারি গাড়ি, অফিস বা রাষ্ট্রীয় অর্থ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ব্যবহার

ধর্ম, সম্প্রদায় বা বর্ণকে ভোট প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা যাবে না।

মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির বা অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনায় প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

টাকা ও উপহার বিতরণ

ভোটারদের টাকা, উপহার বা সুবিধা প্রদান করা আইনত দণ্ডনীয়।

ভোট কেনাবেচার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শোডাউন ও যানজট সৃষ্টি

বড় বহর নিয়ে শোডাউন করা যাবে না।

জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে মিছিল করা নিষিদ্ধ।

অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশ আয়োজনও আইনবিরোধী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ভুয়া তথ্য, গুজব বা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো যাবে না।

ডিজিটাল মাধ্যমেও আচরণবিধি প্রযোজ্য থাকবে।

অবাস্তব প্রতিশ্রুতি

আইন বা সংবিধানবিরোধী কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না।

সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে ভোট চাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিকল্প প্রচারণার সুযোগ

পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও প্রার্থীরা

নির্ধারিত বিধি মেনে প্রচারণা চালাতে পারবেন।

লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ,

সীমিত মাইকিং,

ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ

এবং নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল প্রচারের সুযোগ থাকবে।

তবে সব ক্ষেত্রে আচরণবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

আইন লঙ্ঘনের শাস্তি

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।

প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।

গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মাঠে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।

উপসংহার

পোস্টারমুক্ত নির্বাচন

শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়।

এটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে

একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিয়মের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত হলে

দেশে গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে।

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Doinik Probaho
Customized By BlogTheme