ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধানদের বৈঠক ও JF-17 ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা যারা “স্বাভাবিক কূটনৈতিক খবর” হিসেবে দেখছেন-তারা ভয়াবহভাবে ভুল করছেন।এটি একটি রাজনৈতিক ঘোষণা, একটি ভূরাজনৈতিক সিগন্যাল, এবং সবচেয়ে বড় কথা-এটি ইতিহাস অস্বীকারকারীদের গালে রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার এক সজোর থাপ্পড়।একদিকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে গিয়ে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি স্থানান্তর নিয়ে কথা বলছেন-অন্যদিকে বাংলাদেশের ভেতরেই একদল মানুষ নিরাপদ সোফায় বসে জিন্নাহকে গালি দিয়ে নিজেদের “প্রগতিশীল” প্রমাণে ব্যস্ত।রাষ্ট্র চলে গালি দিয়ে না-রাষ্ট্র চলে শক্তি, কৌশল আর ইতিহাস বুঝে।JF-17 কোনো বিমান নয়-এটা বাংলাদেশের কৌশলগত বিদ্রোহ স্পষ্ট করে বলা দরকার-JF-17 কোনো খেলনা নয়, কোনো শৌখিন কেনাকাটাও নয়।
এটি হলো:পশ্চিমা শর্তের বাইরে থাকা একটি যুদ্ধক্ষমতা
ভারত-কেন্দ্রিক নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে বিকল্প চীন-
পাকিস্তান সামরিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দরজা
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জানে-পুরোনো মিগ-২৯ দিয়ে ২১ শতকের আকাশ রক্ষা করা যায় না। রাডার ছাড়া আকাশ অন্ধ। নেটওয়ার্ক ছাড়া যুদ্ধ আত্মহত্যা।JF-17 সেই বাস্তবতার নাম।এখন আসুন, সেই ‘নিষিদ্ধ’ ইতিহাসে
জিন্নাহ না থাকলে আপনি আজ বাংলাদেশীই হতেন না
এটা অপিনিয়ন নয়। এটা ক্যালেন্ডার, মানচিত্র আর সংখ্যার সত্য।১৯৪৭-এ জিন্নাহ না থাকলে-আজকের বাংলাদেশ হতো ভারতের “পূর্ব বাংলা” প্রদেশ। আপনি থাকতেন দিল্লির শাসনে, সংখ্যাগুরু রাজনীতির অধীনে, একজন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে।
বাংলাদেশ নামটাই থাকতো না। লাল-সবুজ পতাকাও না।
পাকিস্তান ১ হাজার মাইল দূরে ছিল-এই দূরত্বই ৭১ সম্ভব করেছে হ্যাঁ, পাকিস্তান শোষণ করেছে। কিন্তু যারা এটা বলে গলা ফাটান-তারা একবারও বলেন না,ভারতের ভেতরে থাকলে কি স্বাধীনতা সম্ভব হতো?বাংলাদেশের তিন দিকেই ভারত। সেনা, প্রশাসন, আইন, অর্থনীতি-সব দিল্লির হাতে।
সেখানে ৭১ হতো না। সেখানে বিদ্রোহ মানেই নির্মূল।
কলকাতার জমিদাররা আজও আপনার মালিক হতো
পাকিস্তান না হলে-জমিদারি ভাঙতো না কৃষক কখনো জমির মালিক হতো না ব্যাংক, কোম্পানি, শিল্প-সব থাকতো কলকাতাকেন্দ্রিক আজ আপনি যে ভূমিতে দাঁড়িয়ে ইতিহাসকে গালি দেন-সেই ভূমিই থাকতো অন্যের নামে।
আজকের ভারত দেখুন-ভবিষ্যৎ বুঝে নিন RSS, বজরং দল, গরুর মাংস নিষেধ, মসজিদের আজান, নাগরিকত্ব আইন-এসব কল্পনা নয়। এসব আজকের ভারত।
বাংলাদেশ যদি ভারতের অংশ হতো-এই আগুন আপনার ঘরেই লাগতো।৭১-এর দায় জিন্নাহর নয়-এই সত্য মানতে না পারলে ইতিহাস পড়া বন্ধ করুন জিন্নাহ ১৯৪৮-এ মারা গেছেন। ৭১-এ তিনি ছিলেন না। ৫২-তে ছিলেন না। ৬৯-এ ছিলেন না। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আর জিন্নাহ এক জিনিস নয়। এই পার্থক্য না বুঝলে-আপনি ইতিহাস বিশ্লেষক নন, আপনি রাজনৈতিক ভণ্ড।বাংলাদেশ পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বৈঠক আসলে কী বলছে?
এটি বলছে-বাংলাদেশ আর একমুখী গোলামি চায় না। একটি শক্তির করুণা নিয়ে বাঁচতে চায় না। নিজের আকাশ, নিজের নিরাপত্তা, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে চায়।
JF-17 আসুক বা না আসুক-এই আলোচনা নিজেই একটি ঘোষণা।
বাংলাদেশ এখন হিসাব করে চলে, ভয় পেয়ে নয়।
শেষ কথা: ইতিহাস অস্বীকার করলে ভবিষ্যৎ আপনাকে ক্ষমা করবে না জিন্নাহকে ভালোবাসতেই হবে-এমন কথা নেই। কিন্তু ইতিহাসকে গালি দিয়ে রাষ্ট্র বানানো যায় না।
বাংলাদেশ ১৯৪৭ ছাড়া জন্মাতো না। বাংলাদেশ ১৯৭১ ছাড়া মুক্ত হতো না।এই দুই সত্য একসঙ্গে মানার সাহস যাদের নেই-তারা জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকারও রাখে না।
লেখক মো: আবু তাহের পাটোয়ারী সম্পাদক নবজাগরণ