মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি আর কখনো যেন না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা মহেশখালীতে সড়কে টমটম দুর্ঘটনায় মিনহা নামক এক শিশুর মৃত্যু। দেহুন্দায় বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে- হাজী পাভেলের অভিনন্দন তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন: চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ সদরের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম দিক হলো-সে কাউকে আগাম সতর্ক করে না,কিন্তু ভুলের মূল্য সুদে-আসলে আদায় করে। -17 যুদ্ধবিমান, পাকিস্তান-বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও জিন্নাহ: ইতিহাস অস্বীকারকারীদের জন্য এক রাজনৈতিক চপেটাঘাত পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরছেন করিমগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আশরাফ হোসেন পাভেল

ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম দিক হলো-সে কাউকে আগাম সতর্ক করে না,কিন্তু ভুলের মূল্য সুদে-আসলে আদায় করে।

  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে

আবু তাহের পাটোয়ারী 

ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম দিক হলো-সে কাউকে আগাম সতর্ক করে না,কিন্তু ভুলের মূল্য সুদে-আসলে আদায় করে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দায়িত্ব নিয়েছিল, যেখানে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে নতুন পথে নিতে পারত, আর একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো জাতিকে আবার পুরনো অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে।

 

আজ নির্দ্বিধায় বলা যায়-এই সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল জুলাই বিপ্লবের পর বিপ্লবী সরকার গঠন না করা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট না দেওয়া।

 

এই দুটি সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়-এগুলো ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করার অপরাধ।

জুলাই বিপ্লব: সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র সংস্কারের গণরায়

জুলাই বিপ্লব কোনো সাধারণ ক্ষমতা বদলের আন্দোলন ছিল না।এটি ছিল-১৯৭২-পরবর্তী ব্যর্থ রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে গণরায় প্রশাসনিক ফ্যাসিবাদ ও দলীয় দখলদারির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গুম,বিচারবহির্ভূত হত্যা ও সীমান্তে নাগরিক হত্যার বিরুদ্ধে নৈতিক বিদ্রোহ সিন্ডিকেট অর্থনীতি, চাঁদাবাজি ও রাষ্ট্রীয় লুটপাটের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত প্রত্যাখ্যান

বিশ্ব ইতিহাসে বিপ্লবের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য আছে-বিপ্লব পুরনো নিয়মে নির্বাচন করে না,বিপ্লব আগে নিয়ম বদলায়।

ফ্রান্স (১৭৮৯), রাশিয়া (১৯১৭), ইরান (১৯৭৯), দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯৯৪)-কোথাও বিপ্লবের পর আগের নিয়মে সরাসরি নির্বাচন হয়নি জনগণের গণরায় ছাড়া।বাংলাদেশে সেটিই হয়নি।এটাই প্রথম ঐতিহাসিক ভুল।

গণভোট: বিপ্লবকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়ার একমাত্র পথ,গণভোট কোনো বিলাসিতা নয়।গণভোট হলো রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের বৈধ হাতিয়ার।বিশ্ব রাজনীতির দিকে তাকান- ফ্রান্স (১৯৫৮)শার্ল দ্য গলের নেতৃত্বে চতুর্থ প্রজাতন্ত্র ভেঙে

গণভোটের মাধ্যমে পঞ্চম প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়।আজকের শক্তিশালী ফরাসি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি এই গণভোট। দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯৯২)নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তির পর শ্বেতাঙ্গ-

কালো বিভাজনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট হয়।

এই গণভোট ছাড়া বর্ণবাদোত্তর নির্বাচন হতো গৃহযুদ্ধের রেসিপি। চিলি (১৯৮৮)পিনোশের স্বৈরতন্ত্র শেষ হয়

একটি প্রশ্নে-“আপনি কি এই শাসন চান?”“না” জিতে যায়,

ইতিহাস বদলে যায়। তিউনিসিয়া (২০১১-২০১৪)

আরব বসন্তের পর নতুন সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামো গণভোট ছাড়া হয়নি।আর বাংলাদেশ? ৭০ লাখ মানুষের রক্ত ও রাজপথের পরও জনগণকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলো না।ড. ইউনূসের নৈতিকতা বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্ববিবেকের প্রতীক।কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা নোবেল বক্তৃতা দিয়ে হয় না।এটি হয় শক্তি-ইতিহাস-বাস্তবতার কঠিন সমীকরণে।এখানেই দ্বিতীয় বড় ভুল- বিএনপির রাজনৈতিক আশ্বাসে ভরসা করা।বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে ১৯৯১, ২০০১, ২০০৬-এর পরোক্ষ প্রভাবসহ।

প্রশ্নগুলো নির্মম-তারা কি বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ করেছিল?দুর্নীতিতে তারা কি ব্যতিক্রম ছিল?প্রশাসন কি দলীয়করণমুক্ত হয়েছিল?উত্তর ইতিহাসেই লেখা।তারপরও গণভোট ছাড়াই নির্বাচন-এটি সরল বিশ্বাস নয়, রাজনৈতিক আত্মঘাত।আল্লাহ না করুক: যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসেএটি কোনো দলবিদ্বেষ নয়,এটি ইতিহাসভিত্তিক সতর্কতা।যদি বিএনপি জিতে যায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়,যদি ফিরে আসে-রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিচারহীনতার সংস্কৃতি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী অর্থনীতি প্রশাসনের দলীয় দখল তাহলে ইতিহাস প্রশ্ন করবে- কেন জনগণকে আগে জিজ্ঞেস করা হয়নি?সেদিন শুধু বিএনপি নয়,অন্তর্বর্তী সরকারও কাঠগড়ায় দাঁড়াবে।

গণভোট নিয়ে বিএনপির নীরবতা: কৌশল না ভয়?

এটি লক্ষণীয়-জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি অস্পষ্ট

গণভোট নিয়ে তারা প্রচারবিমুখ বিপ্লবের সুবিধা সবচেয়ে বেশি নিয়েও দায় নিতে অনিচ্ছুক কারণ গণভোট মানে-পুরনো রাজনীতির লাইসেন্স বাতিল জনগণের সরাসরি চুক্তি দলীয় মুখোশ খুলে যাওয়া এজন্যই গণভোট এড়িয়ে চলা।নাগরিক জীবনে গণভোটের বাস্তব প্রভাব গণভোট হলে-কোনো সরকার জুলাই সনদ অমান্য করতে পারবে না রাষ্ট্র সংস্কার আইনি বাধ্যবাধকতা পাবে সেনা-পুলিশ-প্রশাসন দলীয় হাতিয়ার হতে পারবে না

বিপ্লব নির্বাচনের পরও জীবিত থাকবে গণভোট ছাড়া নির্বাচন মানে-বিপ্লবকে কবর দিয়ে নিয়মিত ক্ষমতার লড়াই শুরু করা।

“হ্যাঁ” ভোট: শেষ প্রতিরোধ

গণভোটে একটি শব্দই যথেষ্ট- “হ্যাঁ”হ্যাঁ-রাষ্ট্র সংস্কারে

হ্যাঁ-জুলাই সনদে হ্যাঁ-বিচার ও জবাবদিহিতে এই “হ্যাঁ” জয়ী হলে-যে দলই ক্ষমতায় আসুক সে দল আর আগের মতো শাসন করতে পারবে না। ড. ইউনূস,ইতিহাস আপনাকে একটি বিরল সুযোগ দিয়েছে।আপনি চাইলে নিজেকে জাতির মুক্তির প্রতীক করতে পারেন,অথবা একটি নীরব ঐতিহাসিক ব্যর্থতার অংশ।জুলাই বিপ্লব ভুলে যায় না।ইতিহাস ক্ষমা করে না।গণভোট দিন।“হ্যাঁ” ভোটকে জয়যুক্ত করুন।নইলে এই বিপ্লব আপনাকেও প্রশ্ন করবে। জুলাই বিপ্লব এখনো অসমাপ্ত।এটি শেষ হবে জনগণের চূড়ান্ত “হ্যাঁ”-তে।

মো: আবু তাহের পাটোয়ারী:

সম্পাদক, নবজাগরণ জুলাই যোদ্ধা আহত সাংবাদিক

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 Doinik Probaho
Customized By BlogTheme