নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ আলোচনা, যাচাই-বাছাই ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের পর অবশেষে কিশোরগঞ্জ–১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) জাতীয় সংসদীয় আসনে মাজহারুল ইসলাম মাজহার–এর চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছে। দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই আসনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অঙ্গনে নানা জল্পনা, সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম এবং ভিন্ন ভিন্ন হিসাব উঠে এলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাজহারুল ইসলাম মাজহারকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাজহারুল ইসলাম মাজহার জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। স্থানীয় দলীয় কাঠামোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা মনোনয়ন বোর্ডের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-কিশোরগঞ্জ–১ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখানে ভোটের সমীকরণ নির্ধারণে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, বরং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় ইস্যু ও সাংগঠনিক শক্তি বড় ভূমিকা রাখে। এই বাস্তবতায় দলীয়ভাবে একজন পরীক্ষিত ও পরিচিত প্রার্থীকে এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া-চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার খবরে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে তৎপরতা ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আগে যে মতভেদ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল, তা ধীরে ধীরে প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিতও মিলছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
বিশ্লেষণ-রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাজহারুল ইসলাম মাজহারের চূড়ান্ত মনোনয়ন কিশোরগঞ্জ–১ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করা।
সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, কিশোরগঞ্জ–১ আসনে মাজহারুল ইসলাম মাজহারের চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া কেবল একটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; এটি আসন্ন নির্বাচনে এই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।