একটি বিশেষ প্রতিবেদন। আজিজুল হক 

শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্দি–কাশি, ফ্লু, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, ত্বক শুষ্কতা ও জয়েন্ট পেইন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—পর্যাপ্ত পানি পান, উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং ধুলাবালু এড়িয়ে চললেই এ মৌসুমের অধিকাংশ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। শিশু, প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের জন্য শীত বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেদী হাসান রাকিব বলেন,“

ঠান্ডায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত দুর্বল হয়। মানুষ পানি কম পান করে, ফলে ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ে। হাঁপানি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগীসহ ঝুঁকিপূর্ণ সবাইকে ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা, বাইরে গেলে মাস্ক–স্কার্ফ ব্যবহার করা এবং হালকা গরম খাবার খাওয়া জরুরি।”

শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফারাহ হাসানা বলেন,“ শিশুর শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যায়। রাতে উষ্ণ পোশাক, কম্বল, মোজা পরানো এবং ঠান্ডা বাতাস ঢোকে এমন জানালা–দরজা বন্ধ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এ মৌসুমে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়। এজন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল না করার পরামর্শ দেন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত চেকআপ করা এবং রাতে গরম পানিতে পা ভিজিয়ে নেওয়া কার্যকর।

এ ছাড়া শীতে বিছানা–কম্বল নিয়মিত রোদে দেওয়া, ধুলাবালু এড়ানো, ভিটামিন–সি সমৃদ্ধ ফল ও মাছ–ডিম–শাকসবজি খাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত উপভোগ করতে হলে সতর্কতাই শ্রেষ্ঠ সুরক্ষা।

প্রতিবেদক, আজিজুল হক। কলমিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী