এক স্মরণীয়  শোক বার্তা

মানবতার সেবায় যিনি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে আজীবন অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সেই মহান মানবাধিকারকর্মী জনাব মিজানুর রহমান আর আমাদের মাঝে নেই। “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।” পথশিশু, ভিক্ষুক, অনাহারী ও সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন নীরবে, নিরলসভাবে। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিনামূল্যে খাবার বিতরণের ‘ফ্রি ভাতের হোটেল’, যা এলাকাজুড়ে মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। মানবতার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই সর্বশেষ তিনি শার্শা শামলাগাছি গেটে একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে অসংখ্য এতিম ও অসহায় শিশু পেয়েছে আশ্রয়, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা আবেদ আলী। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন,

জনাব মিজানুর রহমান ছিলেন মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার সমাজসেবামূলক কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

মানবাধিকার কর্মীদের বিশাল অঙ্গনে মিজানুর রহমান ছিলেন এক ব্যতিক্রমী নাম। অসংখ্য মানবাধিকার কর্মীর মধ্য থেকে তিনি আমাকে বিশেষ স্নেহ ও ভালোবাসায় আগলে রাখতেন—এই ব্যক্তিগত স্মৃতি আজ গভীর বেদনায় হৃদয় ভারাক্রান্ত করে।

এর

তার ইন্তেকালে মানবসেবার অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। সমাজ হারাল একজন নিঃস্বার্থ সমাজসংস্কারক ও মানবতার প্রকৃত বন্ধু আমরা গভীর শোকের সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আল্লাহপাকের দরবারে প্রার্থনা করছি—

হে আল্লাহ, তাঁর সুন্দর সুন্দর কাজ, শত শত এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ অবদানের বিনিময়ে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন আমিন। মানবতার পথে তাঁর রেখে যাওয়া কর্মই তাঁকে চিরঞ্জীব করে রাখবে।