ডেস্ক রিপোর্ট 

রাজনীতিতে সেই প্রত্যাশিত মুহূর্ত: তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ও জনমতের শঙ্কা কাটল।বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৫ সালের শেষ পালা এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। দেশেও ঘোষিত আছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ — কিন্তু গণমানুষের মধ্যে ছিল একটা গা–ঝাড়া সন্দেহ: নির্বাচন কি বাস্তবে হবে কি না? এমন এক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন–কে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে।

গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে লন্ডন থেকে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের পুত্র ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি প্রায় ১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্বাসন কাটিয়ে বাংলাদেশে পা রাখলেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক মহলে সর্বত্র আলোচ্য নয়, বরং প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং দেশীয় গণমাধ্যম একই সাথে এ ঘটনাকে বাংলাদেশি রাজনীতির এক মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছে।

প্রেস ও জনমতের শঙ্কা

দেশে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও গত মাসগুলোতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক দূরদর্শী বহু পর্যবেক্ষকই প্রশ্ন তুলেছিলেন — ব真正 নির্বাচন কি হবে? এই সন্দেহগুলো ছিল কার্যত বহুল আলোচিত। কারণ গত কয়েকবছরে রাজনৈতিক বিবৃতি, প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থান একনিষ্ঠ নয় ছিল; ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধ্যান–ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল যে নির্বাচনের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় বলা যায়।

এই শঙ্কা, এক কথায়, জোরালো রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব ও বিপুল সংঘর্ষের আশঙ্কা দিয়ে অধিকতর জটিল হয়ে উঠেছিল। সেই শঙ্কা কিছুটা হলেও মানসিকভাবে মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিরতার অভাবে জন্ম নিয়েছিল — “নির্বাচন হলেও কি তা বাস্তবিক গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে?”— এমন প্রশ্ন ছিল। যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এসে–যাওয়া মন্তব্য করেছেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তার সাপেক্ষে বলেছিলেন, এই শঙ্কা নির্বাচনের প্রকৃত বাস্তবায়ন নিয়ে একটি অন্তর্নিহিত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তারেক রহমানের ফেরা: কি পরিবর্তন আনলো?

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সদস্য সচিব জনব আখতার হোসেন তার সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে জানান, “দেশে যখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন হবে কি না—এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল, এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হলো।”

এমন মন্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশে এক ধরনের ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দিক থেকে যে নেতৃত্বের উপস্থিতি সত্যিই উঠে এসেছে, তা সাধারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক কর্মী–সমর্থকদের দৃষ্টিতে নির্বাচনের একটা “সম্ভাব্য, বাস্তব ও শক্তিশালী প্রেক্ষাপট” গড়ে তুলেছে। এতে করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা কিছুটা কমে যায় বলে মনে করছেন অনেকেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই ফেরার প্রভাব কেবল মানসিক সঙ্কট দূর করেছে নাকি বাস্তবভাবেও নির্বাচনের পরিবেশে একটি ন্যায্য, সক্রিয় ও অংশগ্রহণসম্মত রাজনৈতিক পরিসর গড়ে উঠছে? এই প্রসঙ্গে এনসিপি ও অন্যান্য সমর্থক দল মনে করছে যে তারেক রহমানের ফিরে আসা শুধু রাজনৈতিক প্রতীক নয়, বরং তা একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের পুনরাবির্ভাবকে তুলে ধরেছে, যা আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের দিকটি আরো দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছে‌।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে শুধুমাত্র একজন প্রধান রাজনৈতিক নেতার প্রত্যাবর্তন যথেষ্ট নয় যদি নির্বাচনের বহুলাংশ বাস্তবিক শুদ্ধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে না ঘটে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, অখণ্ড গণমাধ্যম ও অংশগ্রহণমূলক মানবাধিকার এসব দিকেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি নিহিত। এই দিকটি শুধুমাত্র মানসিকভাবেই নয়, আদর্শিক ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাতেও নিশ্চিত করতে হবে।

তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “তারেক রহমানের ফেরার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রতি মানুষের সন্দেহ কিছুটা কমেছে; কিন্তু স্থায়ীভাবে যে বিচার–বিনিময়, পরিস্থিতি বা পরিবেশ নিশ্চিত করে দেবে — তা শুধু একজন নেতার উপস্থিতির মাধ্যমে সম্ভব নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিশ্রম ও সময়সাপেক্ষ কাজ।”

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে এক ইতিবাচক রাজনৈতিক সঙ্কেত সৃষ্টি করেছে, যেটি কমপক্ষে মানুষের মনে নির্বাচন–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ও সন্দেহের পর্দা ঝাড়তে সচেষ্ট হয়েছে। নির্বাচন এখন শুধু ঘোষিত দিন ও ভোটের মুদ্রা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবনের প্রতীক হিসেবেও সামনে এসেছে।