বিশেষ প্রতিনিধি করিমগঞ্জ থেকে
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনের রাজনীতিতে সুতারপাড়া ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই একটি বৈপরীত্যের নাম। একদিকে এই ইউনিয়নের নদী বিল বাজার, জেডি ঘাট ও ফেরিঘাট থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার সর্বাধিক সরকারি রাজস্ব আদায় হয়, অন্যদিকে একই ইউনিয়ন উন্নয়ন বঞ্চনার এক করুণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সুতারপাড়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে এক যৌথ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকের এমপি প্রার্থী হাফেজ মাওলানা প্রভাষক আলমগীর হোসাইন তালুকদারকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নির্বাচনী কৌশল ও জনসম্পৃক্ততা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সুতারপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোঃ আশরাফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুরাদ হোসেন মমতাজ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ করিমগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেন—যে ইউনিয়ন করিমগঞ্জ উপজেলার অর্থনৈতিক চাকার অন্যতম চালিকাশক্তি, সেই ইউনিয়নের মানুষ কেন আজও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত? তিনি বলেন, গত দুই থেকে আড়াই দশকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের নামে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং একসময়ের প্রশস্ত রাস্তাগুলো সংকুচিত হয়ে আজ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির নগ্ন চিত্র তুলে ধরে।
রুহুল আমিন আরও বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব। তাঁর মতে, আলমগীর হোসাইন তালুকদার একজন সৎ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে রাজনীতিতে একটি ভিন্ন ধারা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করতে পারলে করিমগঞ্জ উপজেলা এবং বিশেষ করে সুতারপাড়া ইউনিয়ন দুর্নীতিবাজ চক্রের হাত থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পাবে।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, সুতারপাড়ার মানুষ আজ আর উন্নয়নের আশ্বাসে বিশ্বাস করতে চায় না; তারা চায় জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব নেতৃত্ব। সে লক্ষ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যৌথ আলোচনা সভা কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়; বরং এটি সুতারপাড়ায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। ভোটের রাজনীতিতে এই জনমত কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।