বিশেষ প্রতিনিধি | করিমগঞ্জ
নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যেই বালিখলা বাজারে গণসংযোগকালে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল–করিমগঞ্জ) আসনের হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা হাফেজ মাওলানা প্রভাষক আলমগীর হোসাইন তালুকদার। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, লক্ষ্য ও ইসলামী রাষ্ট্রচিন্তার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“ইসলামী রাজনীতি মানে শুধু ধর্মীয় স্লোগান নয়। ইসলামী রাজনীতি মানে এমন একটি সমাজ গঠন, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার নিরাপদ থাকবে, দুর্নীতি থাকবে না এবং রাষ্ট্র হবে জনগণের কল্যাণের বাহন।”
তিনি স্পষ্ট করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতি ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি একটি আদর্শিক আন্দোলন—যার মূল লক্ষ্য মানবতার কল্যাণ।
ইসলাম ও মানবিক রাজনীতির সংযোগ
আলমগীর হোসাইন তালুকদারের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ইসলামের মানবিক দিক। তিনি বলেন,
“ইসলাম ক্ষুধার্তকে খাবার দিতে বলে, নির্যাতিতের পাশে দাঁড়াতে বলে, দুর্বলকে শক্তিশালীর জুলুম থেকে রক্ষা করতে বলে। রাজনীতিও যদি এই নীতির ওপর দাঁড়ায়, তবে সমাজে বৈষম্য টিকতে পারে না।”
তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিচারহীনতার কারণে। ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা এসব সমস্যার একটি নৈতিক ও কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“ইসলামে শাসক কখনোই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নন। রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে ইউনিয়নের দায়িত্বশীল ব্যক্তিও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।”
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে সংসদ হবে জনগণের কথা বলার জায়গা, লুটপাটের বৈধতার কেন্দ্র নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই চারটি খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
মানুষের আস্থা ফেরানোর রাজনীতি
গণসংযোগকালে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন,
“মানুষ রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। আমরা সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে।”
বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির বদলে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির আহ্বান স্পষ্ট। হাতপাখা প্রতীককে তিনি কোনো দলের প্রতীক নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
একটি ভিন্ন বার্তা
বালিখলা বাজারের এই গণসংযোগ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি ছিল না—বরং এটি ছিল রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার এক ধরনের ঘোষণা। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বক্তব্য নতুন আলোচনা ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।